আজ ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ড্রেনের ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ!

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট- এলজিএসপি’র গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আছিম পাটুলী ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে ড্রেন নির্মাণে ঢালাইয়ে রডের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ। আবার কেউ কেউ রড-বাঁশ কোনটাই দেয়নি। প্রাথমিক তদন্তে মিলেছে সত্যতাও। ফেঁসে যাচ্ছেন তিন ইউপি সদস্য। জেলা প্রশাসক জানান, অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের এলজিএসপির বরাদ্দ থেকে আছিম পাটুলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ইউ ড্রেন নির্মাণ করছেন ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী। ড্রেনের নীচের ঢালাইয়ে তিনি রডের বদলে ব্যবহার করেছেন বাঁশ। বাঁশের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে রাতের আঁধারে ঢালাই ভেঙে বাঁশ সরিয়ে ফেলে ইউপি সদস্যের লোকজন।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য হালিমা খাতুনও করেছেন একই কাজ। বাঁশকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায়, মেম্বারকে বিষয়টি বললে মেম্বার আমাদেরকে বলে তোমরা কি জানো? আমরা এ বিষয়ের একটা বিচার দাবি করছি। 

অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের দুজন স্বীকার করেছেন, তারা ভুল করেছেন।

ফুলবাড়িয়া আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী জানান, বাঁশ আমি দেইনি। পরিষদের যিনি দায়িত্বে আছে তিনি দিয়েছেন।  

ময়মনসিংহ ফুলবাড়িয়া’র আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রাশেদা খাতুন জানান, ঢালাই দিয়েছি সচিবের কথা অনুযায়ী। আমাকে তো আর বলেনি নিচেও রড দেয়া লাগবে।

এলজিএসপির কর্মকর্তারা জানান, উন্নয়ন কাজে অনিয়মে তিনজন ইউপি সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আর জেলা প্রশাসক জানালেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এলজিএসপি-৩ ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর আজিজুর রহমান জানান, ৬ ওয়ার্ডে টপ স্লাবা ও বটম স্লাবের ডিজাইন প্রাক্কলন একই। কিন্তু বটম স্লাবে রড ব্যবহার করা হয়নি।    

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান জানান, অনিয়মের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। যেই হোক না ক্যান তাদের বিরুদ্ধে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

ফুলাবড়িয়া উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের মাধ্যমে গত অর্থ বছরে গড়ে ২৬ থেকে ২৭ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Facebook Pagelike Widget